শুক্রবার, ৯ মার্চ, ২০১২

তেলেগু চলচ্চিত্র- পার্ট ২

যারা তেলেগু চলচ্চিত্র নিয়ে আগের পোস্ট পড়েননি তাদের জন্য তেলেগু চলচ্চিত্র- পার্ট ১ লিঙ্ক।


সবাক চলচ্চিত্রের উত্থানঃ ১৯৩১-১৯৪৭
১৯৩১ সালে এইচ.এম রেড্ডির প্রযোজনায় প্রথম সবাক তেলেগু ছবি 'Bhakta Prahlada' তৈরি হয়। টকি নামে
প্রথম সবাক তেলেগু ছবি 'Bhakta Prahlada'  এর দৃশ্য
এই ধরনের ছবি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং সংখ্যায় বাড়তে থাকে। ১৯৩৪ সালে তেলেগু চলচ্চিত্র শিল্প তার প্রথম বানিজ্যিক সাফল্য পায় 'Lavakusa' এর মাধ্যমে। সি.পুল্লাইয়াহ এর পরিচালনায় এতে মূল চরিত্রে
অভিনয় করেন পারুপাল্লি সুব্বারাও ও শ্রীরাঞ্জানী। ছবিটি তখনকার দিনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং অগুনিত সংখ্যক মানুষ থিয়েটারে গিয়ে উপভোগ করে। যার ফলে তরুণ তেলেগু চলচ্চিত্র শিল্প প্রতিষ্ঠা পায় ও মূল সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়।


১৯৩৬সালের দিকে পরিচালকেরা ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনী থেকে বের হয়ে যেতে থাকে। একই বৎসর কৃত্থিভেন্তি নাগেস্বরা রাও ও প্রেমা ভিজায়াম এর পরিচালনায় একটি ছবি মুক্তি পায় যার মূল বিষয় ছিল সামাজিক সমস্যা। এই ছবির সাফল্যের কারনে আরও প্রায় ডজন খানেক সামাজিক ছবি ব্যাবসায়িক সাফল্য পায়। যার মধ্যে ১৯৩৯ সালে মুক্তি প্রাপ্ত 'Vandemataram' ও 'Maala Pilla' উল্লেখযোগ্য। সামাজিক সমস্যা যেমন ধরা ছোয়ার বাইরে থাকা ব্যাক্তি বা সুদের ব্যবসা, ঘুষ, যৌতুক প্রথা ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে তেলেগু চলচ্চিত্র সমকালীন জীবন যাত্রার উপর দৃষ্টি পাত করে। যার ফলে ১৯৩৭-১৯৪৭ এই দশকে মুক্তি প্রাপ্ত ৯৬টির মধ্যে মাত্র ২৯টি ছবি ছিল সামাজিক ছবি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পরবর্তি সম্পদ দুষ্প্রাপ্ততার কারনে ব্রিটিশ রাজ ১৯৪৩ সালে ছবির ফিল্মের দৈর্ঘ্য ১১,০০০ ফিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয় যদিও তৎকালীন সময়ে ২০,০০০ ফিট ছিল প্রচলিত দৈর্ঘ্য। যার কারনে যুদ্ধকালীন সময়ে ছবির সংখ্যা কমে যায় আগের বছরগুলোর তুলনায়। তবে তার আগে তেলেগু চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়ঃ স্বতন্ত্র স্টুডিও গঠিত হয়, অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে এবং ছবির থিম সামাজিক বিষয় থেকে লোক মুখে প্রচলিত পৌরাণিক গল্পে চলে যায়।

চলবে...

Post Comment

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন